পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পেকুয়া বাজার-সিরাদিয়া সড়কের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সালের পর আর কোনো সংস্কার না হওয়া সড়কটির প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার অংশ অবশেষে সংস্কারের আশ্বাস মিলেছে। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বেহাল থাকা এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মইয়াদিয়া আবছার সওদাগরের দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (গরম মসজিদ) পর্যন্ত অংশের অধিকাংশ ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দুপাশের মাটি সরে কোথাও কোথাও সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অংশে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইট দিয়ে সড়কটির উন্নয়ন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।

পেকুয়া বাজার থেকে সিরাদিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভোলাইয়াঘোনা রাস্তার মাথা থেকে মইয়াদিয়া আবছার মিয়ার দোকানঘর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করা হয়েছে। তবে বাকি অংশটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সড়কটি সিরাদিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মৎস্য ও লবণচাষ সমৃদ্ধ এ এলাকার উৎপাদিত মাছ ও লবণ পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিরাদিয়া জেটিঘাট হয়ে মাতামুহুরীর কোনাখালী, বাংলাবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পেকুয়া বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমও এটি।

এ ছাড়া সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে (গরম মসজিদ) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা আসেন। সড়কের পাশে রয়েছে সিরাজুল হক চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এ পথ দিয়ে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজ, পেকুয়া মডেল সরকারি জিএমসি ইনস্টিটিউশন ও পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

সড়কটির দ্রুত সংস্কারের দাবিতে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিরাদিয়ার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

মাঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, “সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

লবণচাষি জামাল উদ্দিন বলেন, “লবণ পরিবহনের সময় যানবাহন গর্তে আটকে যায়। অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।”

মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, “সড়কের ইট উঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধের মতো অবস্থা। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

কলেজছাত্র রাসকান বলেন, “ভাঙাচোরা সড়কের কারণে নিয়মিত কলেজে যেতে সমস্যা হয়। প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, দীর্ঘ ২২ বছর পর সড়কটির সংস্কার হলে সিরাদিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।